পিঁপড়া সম্পর্কে যে অবাক করা তথ্য দিয়েছে আল কোরআন
নবী সুলাইমান (আ.) ছিলেন মহান আল্লাহর এক বিশেষ প্রেরিত নবী, যাকে অগাধ জ্ঞান, অতুলনীয় ক্ষমতা ও বিশাল রাজত্ব দান করা হয়েছিল। তার অধীনে ছিল মানুষ, জিন, পশু-পাখি ও এক বিশাল সেনাবাহিনী। আল্লাহ তাঁকে এমন এক অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি পশুপাখির ভাষা বুঝতে পারতেন। কোরআনের সূরা আন-নামলে উল্লেখিত রয়েছে তাঁর সঙ্গে এক পিঁপড়ার দলের কথোপকথনের চমকপ্রদ ঘটনা, যার মধ্যে নিহিত রয়েছে এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক সত্য।একদিন নবী সুলাইমান (আ.) তাঁর বিশাল সেনাবাহিনী—জিন, মানুষ ও পক্ষীকূলসহ—এক এলাকায় অতিক্রম করছিলেন। সেখানে ছিল পিপিলিকাদের উপত্যকা, যেখানে অসংখ্য পিঁপড়ার ঘরবাড়ি ছিল। সেনাবাহিনীর আগমন টের পেয়ে এক পিঁপড়া তার সঙ্গীদের সতর্ক করে বলল, “ওহে পিঁপড়ার দল, তোমরা দ্রুত তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো, যাতে সুলাইমান ও তাঁর সৈন্যরা অজান্তে তোমাদের পদদলিত না করে ফেলে।” সুলাইমান (আ.) পিঁপড়াটির কথা শুনে মুচকি হেসে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন—“হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছ, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শক্তি দান করো, এবং আমাকে এমন সৎকর্মে নিয়োজিত করো যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও।”
কোরআনের সূরা নামল-এর ১৮ নম্বর আয়াতে এই ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ আছে। সেখানে পিঁপড়াটির জন্য ‘কালাত’ ক্রিয়াপদটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী স্ত্রীলিঙ্গ রূপ। অর্থাৎ, কোরআনে উল্লেখিত পিঁপড়াটি নারী ছিল। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, পিঁপড়ার সমাজে রানী, পুরুষ ও শ্রমিক—এই তিন শ্রেণি রয়েছে। শ্রমিক পিঁপড়ারাই বাইরের সব কাজ করে—খাবার সংগ্রহ, বাসা বানানো ও উপনিবেশ রক্ষা। আশ্চর্যের বিষয়, সব শ্রমিক পিঁপড়াই নারী। পুরুষ পিঁপড়া সাধারণত প্রজননের কাজে অংশ নেয় এবং তাদের ডানা থাকে, ফলে তারা বাইরে কাজ করে না। তাই সূরা নামলে উল্লেখিত পিঁপড়াটি যেহেতু বাহিরে ছিল ও অন্যদের সতর্ক করছিল, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে সেটি একটি নারী শ্রমিক পিঁপড়াআরও একটি বৈজ্ঞানিক দিক হলো, পুরুষ পিঁপড়াদের ডানা থাকে, তারা উড়তে সক্ষম। কিন্তু কোরআনে উল্লেখিত পিঁপড়ারা মাটির নিচে আশ্রয় নিয়েছিল, উড়ে পালায়নি—এটি প্রমাণ করে তারা ছিল ডানাবিহীন নারী পিঁপড়া। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও দেখা গেছে, ডানাবিহীন পুরুষ পিঁপড়ারা কখনোই বাইরে যায় না বা খাবার সংগ্রহে অংশ নেয় না।
তাফসীরবিদগণ এই আয়াত থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরেছেন। প্রথমত, প্রাণীদেরও আল্লাহপ্রদত্ত এক বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বিপদ অনুভব করতে ও পরস্পরকে সতর্ক করতে পারে। দ্বিতীয়ত, নবী সুলাইমান (আ.) এত মহান হয়েও গায়েবের জ্ঞান রাখতেন না—এটি প্রমাণ করে শুধুমাত্র আল্লাহই অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন। তৃতীয়ত, সুলাইমান (আ.) সকল প্রাণীর ভাষা বুঝতে পারতেন, যা তাঁর একটি অলৌকিক মুজিজা ছিল। চতুর্থত, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী—পিঁপড়ার মন্তব্য শুনে তিনি রাগান্বিত না হয়ে বরং হাসলেন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেএই আয়াত কেবল একটি পিঁপড়ার গল্প নয়; বরং এটি বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার এক সূক্ষ সমন্বয়। সূরা আন-নামল আমাদের শেখায়, সৃষ্টির প্রতিটি জীবের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর অসীম প্রজ্ঞার প্রতিফলন, আর সেই প্রজ্ঞা অনুধাবনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানুষের জ্ঞানের প্রকৃত মাহাত্ম্য।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment