অন্তরের ১০টি আমল যা মুমিনকে শক্তিশালী করে
ইসলাম শুধু বাহ্যিক আমল বা আনুষ্ঠানিকতার নাম নয়, ইসলাম বান্দার নিষ্ঠা ও ভালোবাসারও নাম। ইসলামের বাহ্যিক দিক রয়েছে, তেমনি আছে অভ্যন্তরীণ দিক। যাকে বলে অন্তরের আমল। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের বাহ্যিক আমল নির্ভর করে তাঁর অন্তরের আমলের ওপর।নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই নিয়তের ওপর যাবতীয় আমলের ফলাফল নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)
নিম্নে মুমিন বান্দার অন্তরের উল্লেখযোগ্য ১০টি আমল তুলে ধরা হলোইখলাস হলো কোনো কাজ শুধু আল্লাহর জন্য করা, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির সামনে পৃথিবীর কাউকে ভ্রুক্ষেপ না করা।
‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং নামাজ কায়েম করতে ও জাকাত দিতে, এটাই সঠিক দ্বিন।’ (সুরা: বাইয়িনাহ, আয়াত: ৫)
২. তাওয়াক্কুল
তাওয়াক্কুল হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখা।
‘অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বোলো, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি।’ (সুরা: তাওবা, আয়ারজা হলো সব সময় আল্লাহর কাছ থেকে ভালো প্রত্যাশা করা, কখনো নিরাশ না হওয়া।
‘তোমরা আল্লাহর আশিস থেকে নিরাশ হয়ো না। কেননা আল্লাহর আশিস থেকে শুধু অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ই নিরাশ হয়ে থাকে।’ (সুরা: ইউসুফ, আয়াত: ৮৭)
৪. খওফ বা ভয়
খওফ হলো অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখা।
‘আল্লাহর বান্দাদের ভেতর যারা জ্ঞানী তারাই তাঁকে ভয় করে।’ (সুরা: ফাতির, আয়াশোকর হলো আল্লাহর অনুগ্রহগুলো স্মরণ রেখে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
‘স্মরণ করো, তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সুরা: ইবরাহিম, আয়াত: রিদা বা সন্তুষ্টি
রিদা হলো আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও নির্ধারণের ওপর বান্দার সন্তুষ্টি এবং নিজের আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা।
‘মানুষের ভেতর এমন লোকও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আত্ম-উৎসর্গ করে থাকে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র।’ (সুরা: বাকারাহ, আয়াত: ২০৭)
৭. সবর বা ধৈর্য
বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো এবং সদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকো, আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা: আলে ইমরান, আয়াত: ২০০)
৮. মুহাসাবা বা আত্মমুহাসাবা মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।
‘যেদিন প্রত্যেকে সে যে ভালো কাজ করেছে এবং সে যে মন্দ কাজ করেছে তা বিদ্যমান পাবে, সেদিন সে তার ও তার কৃতকর্মের ভেতর দূর ব্যবধান কামনা করবে। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র।’ (সুরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৩০)
৯. তাফাক্কুর
তাফাক্কুর হলো আল্লাহর বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা।
‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে ও বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এটা নিরর্থক সৃষ্টি করোনি, তুমি পবিত্র, তুমি আমাদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা: আলে ইমরান, আয়ামহব্বত হলো আল্লাহকে ভালোবাসা এবং আল্লাহর ভালোবাসাকে মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করে তার আলোকে অন্যদের ভালোবাসা।
‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ ছাড়া অপরকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে এবং আল্লাহকে ভালোবাসার মতো তাদেরকে ভালোবাসে; কিন্তু যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় তারা সুদৃঢ়।’ (সুরা: বাকারাহ, আয়াত: ১৬৫)ত: ১৯১)জিজ্ঞাসা৭)ত: ২৮)ত: ১২৯)—
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment