আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির প্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য ভারতকে দুই দফা ‘কূটনৈতিক পত্র’ দেয় ঢাকা। প্রথমে পত্রের জবাব না দিলেও দ্বিতীয় চিঠির জবাব দিয়েছে ভারত। যা দুদেশের জমানো বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সব সময়ই ছিল, আছে এবং থাকবে। তবে ভারতে পালিয়ে যাওয়া পতিত সরকার নিজ দেশের স্বাতন্ত্র্য বজায় না রেখে দিল্লির তাঁবেদারিতেই পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে সে তাঁবেদারি না থাকার কারণেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে।স্বৈরাচার হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরই বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করেদেয় ভারত। যা ছিল দুদেশের সঙ্গে কূটনৈতিকি সম্পর্কের ঘাটতি। তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বেশি দিন স্থায়ী ছিল না। অল্প কিছুদিনের পরেই মেডিক্যাল ভিসা চালু করে ভারত সরকার।জাতীয়
ভারত-বাংলাদেশ বরফ গলতে শুরু করেছে
মীর্জা মসিউজ্জামান
প্রকাশিত: ০০:১৫, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
FacebookTwitterEmailWhatsAppLinkedInMessenger
ভারত-বাংলাদেশ বরফ গলতে শুরু করেছে
Now Playing
x
video of: গাজীপুরে স্ত্রী- সন্তানকে হত্যা*র পর স্বামীর আত্মহ*ত্যাPlay Video
গাজীপুরে স্ত্রী- সন্তানকে হত্যা*র পর স্বামীর আত্মহ*ত্যা
Watch on
Video channel logo
গাজীপুরে স্ত্রী- সন্তানকে হত্যা*র পর স্বামীর আত্মহ*ত্যা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির প্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য ভারতকে দুই দফা ‘কূটনৈতিক পত্র’ দেয় ঢাকা। প্রথমে পত্রের জবাব না দিলেও দ্বিতীয় চিঠির জবাব দিয়েছে ভারত। যা দুদেশের জমানো বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সব সময়ই ছিল, আছে এবং থাকবে। তবে ভারতে পালিয়ে যাওয়া পতিত সরকার নিজ দেশের স্বাতন্ত্র্য বজায় না রেখে দিল্লির তাঁবেদারিতেই পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে সে তাঁবেদারি না থাকার কারণেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে।
স্বৈরাচার হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরই বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করে
দেয় ভারত। যা ছিল দুদেশের সঙ্গে কূটনৈতিকি সম্পর্কের ঘাটতি। তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বেশি দিন স্থায়ী ছিল না। অল্প কিছুদিনের পরেই মেডিক্যাল ভিসা চালু করে ভারত সরকার।
যদিও তা সীমিত আকারে ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশীদের জন্য বাণিজ্যিক ভিসাও চালু করেছে দেশটি। যা পর্যালোচনা করলে দুদেশের সম্পর্কের ঘাটতি তা বলা মুশকিল। বাংলাদেশ বর্তমানে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছে অতীতের পালিয়ে যাওয়া সরকার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন অতিরঞ্জিত না করে স্বাধীন দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সম্পর্কের মানদণ্ড নিয়ে অগ্রসর হলে বর্তমানে বাংলাদেশের সামনে যে কূটনৈতিক পরীক্ষায় রয়েছে। সে পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। তবে দুদেশের সম্পর্কের একটু মলিনতা থাকলেও সে মলিনতার বরফ গলতে শুরু করেছে। নিরাপত্তা উপদেষ্টার ভারত সফরের ফলে সে মলিনতা কাটতে শুরু করেছে। যদিও ভারত ইচ্ছে করলে নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আমন্ত্রণ না কআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড রায়ের ১দিন পর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আমন্ত্রণে ভারত সফর করেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।দুদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে ৪৫ মিনিটের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হলেও হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে কথা হয়। যদিও ভারত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মনমানসিকতা দেখা যায়নি। তবে দ্বিতীয় দফা চিঠির উত্তর পর্যালোচনা করছে বলে দাবি করছে ভারত যা দুদেশের কূটনৈতিক সফলতা। নিরাপত্তা উপদেষ্টা সফরের পর ‘ভারতের বাণিজ্যিক ভিসা চালু, উভয় দেশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, দোভালকে ঢাকায় আমন্ত্রণ এবং সে আমন্ত্রণ দিল্লির গ্রহণসহ বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গিকারবদ্ধ হওয়া সবই বরফ গলার ইঙ্গিত।’রলেচীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ উল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন, ভারত যেহেতু বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে দাওয়াত দিয়েছে, সেটি বাংলাদেশের জন্য একটি কূটনৈতিক সম্পর্ক আগানোর প্রাথমিক ধাপ।ওতাছাড়া ভারত তো বাংলাদেশের পাঠানো চিঠির পর্যালোচনা করছে । তাহলে সেটি সমস্যার তো কিছু নেই। হয়তো বা তারা ফেরত দেবে না কিন্তু বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বা দেবে না সেটি ভাবার সুযোগ নেই।তবে সাবেক এ রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ভারত তাকে ফেরত দেবে সেটা আশা করা খুব একটা যৌক্তিক না। তবে সরকার পরিবর্তিত হলে তখন হয়তো দুদেশের সম্পর্ক আরও সামনের দিকে অগ্রসর করবে। কারণ, ভারতেরও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রচুর বাণিজ্য রয়েছে। বড় দেশ হিসেবে তারা নিশ্চই চাইবে না তাদের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক। সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেন, দুদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলা অবস্থায় এ সফর সে টানাপোড়েন থেকে বেড়িয়ে আসার বরফ গলতে শুরু করেছে। অজিত দোভালকে ঢাকায় আমন্ত্রণ সে যেহেতু ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে, সেহেতু অপেক্ষা করা ছাড়া তেমন কোনো সদুত্তর আপাতত নেই বললেই চলে।পারতেতবে স্বৈরাচারী হাসিনাকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভারতীয় কূটনৈতিকদের দাবি, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে নয়াদিল্লির স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করেই তার মসনদ টিকিয়ে রেখেছিলেন। সেই হাসিনাই ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা কূটনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে বটে, তবে সেটি সামনের নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলে সে সমস্যা থাকবে না বলেও মত দেন তিনি।ন, নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ বলেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন শক্তিগুলোর রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে দেখছে ভারত। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রায়ের বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে এবং তারা সব সময় সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে।তাপিনাক চক্রবর্তী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে যাবে কারণ, তারা বারবার বলতে থাকবে, ভারত আমাদের কাছে তাকে ফেরত দিচ্ছে না। ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারত জটিলতার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে তার প্রতি ‘জনগণের ক্ষোভকে’ তারা উপেক্ষা করতে পারে না বলেও অভিমত প্রকাশ করেছেন তিনি।ভারতিনি দাবি করেন, স্বাভাবিকভাবেই নয়াদিল্লি চাইবে, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরুক। শেখ হাসিনা ভারতের জন্য সব সময়ই সর্বোত্তম পছন্দ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভারতকে মানতে হবে, বাংলাদেশে হাসিনাকে আর সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এর পরিবর্তে ভারতের উচিত, ঢাকার অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা।ত কশ্রীরাধা দত্ত বলেন, বর্তমানে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু আমাদের অবশ্যই এই নির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডা ( শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ) ছেড়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তিনি মনে করেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যদি আর মিত্রতা নাও থাকে, তবু তাদের একে অপরের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রয়োজন। হাসিনা নিরাপত্তার জন্য দেশ ছাড়লে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালই তাকে সাদরে গ্রহণ করেন। আজকে সেই অজিত দোভালই পুনরায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানায়। যা দুদেশের কূটনৈতিক সফলতার ইঙ্গিত বহনেরই নামান্তর।রেনি।এ বিষয়ে দেশটির সাবেক হাইকমিশনার পিনাক চক্রবর্তী বলেন, এবার আমরা হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাইনি। হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকায় ভারত তাকে থাকতে দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা কি বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারবেন, বিশেষ করে এখন যখন তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে? তিনি ভারতের প্রতি বন্ধুত্বসুলভ ছিলেন ।বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, ভারতে যার নিরাপত্তাগত প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচনের দিনক্ষণও এগিয়ে আসছে, যে নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করাটা অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে খুব বড় চ্যালেঞ্জ।এই নির্বাচন নিয়েও ভারতের একটা স্পষ্ট অবস্থান আছে, যা ঠিক বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাছাড়া ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অস্বস্তিকর ইস্যু তো রয়েছেই।এদিকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ফলে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কের বিষয়টি একটি অস্বস্তি কাঁটার মতো খচখচ করছে! বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণহত্যার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর বিষয়টি একটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment